আলিপুরদুয়ার জেলা
২০১৪ সালের ২৫ শে জুন জলপাইগুড়ি জেলা ভেঙে 'আলিপুরদুয়ার' নামে নতুন জেলা গঠিত হয়েছে। জলপাইগুড়ি শহর থেকে অন্যান্য স্থানের দূরত্ব বেশি হওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানোর অসুবিধার কারণে এই জেলা গঠিত হয়েছে। এই জেলার সদর দপ্তর হল আলিপুরদুয়ার। এই জেলা মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। এখানে ৮০% বেশি এস.সি/এস.টি. ভুক্তঃ মানুষ বাস করে। এখানে রাজবংশী, রাভা, মেচ, সাঁওতাল, মাদাসিয়া, বোড়ো, টেটো, ওরাং উপজাতির বসবাস।
এক ঝলকে আলিপুরদুয়ার জেলা
ভৌগোলিক অবস্থান
ভৌগোলিকভাবে আলিপুরদুয়ার এর পশ্চিমে জলপাইগুড়ি, পূর্বে অসম, দক্ষিণে কোচবিহার সীমান্ত রয়েছে। এই জেলার উত্তরে ভুটানের সাথে একটি আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা রয়েছে। এখানের প্রধান প্রধান নদীগুলি হল তোর্সা, রায়ঢাক, কালজানি, সংকোশ, গদাধর।
ভৌগোলিক অবস্থান (বিস্তারিত)
ভূ-প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য
আলিপুরদুয়ার জেলাটি হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চল তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে ঈষৎ তরঙ্গায়িত ভূমিরূপ দেখা যায়। বক্সা ও ভুটান সীমান্ত অঞ্চলটি অনেকটা অনুর্বর। এখানকার গড় উচ্চতা ৯৩ মিটার।
● পাহাড়: (ক) বক্সা ও (খ) জয়ন্তী। এই অঞ্চলগুলিতে কার্স্টভূমিরূপ (Krast landforms) দেখা যায়।
● জলবায়ু: এই জেলায় দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা ৩২° সেন্টিগ্রেড এবং সর্বনিম্ন গড় উষ্ণতা ১০° সেলসিয়াস। আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা ডুয়ার্সে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
● নদনদী: এখানকার প্রধান নদনদী হল, তোর্সা, কালজানি, রায়ঢাক, জয়ন্তী, সংকোশ। এগুলি প্রধানত পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়।
● মৃত্তিকা: এখানকার মাটি দানাযুক্ত দোঁআশ এবং সূক্ষ্ম দোঁআশ।
● চা-বাগান: এই জেলায় মোট ৬৫টি চা বাগান রয়েছে।
● কৃষি: এখানকার প্রধান কৃষি চা। এছাড়া ডানাশস্যের চাষ যেমন, ধান, গম, ডালের চাষ হয়ে থাকে।
● অরণ্য: এই জেলায় ৭,৩৪,৩৯৬ হেক্টর ভূমি অরণ্য রয়েছে।
● জনজাতি এবং উপজাতি: বোড়ো, মেচ, টোটো, সাঁওতাল।
● দর্শনীয় স্থান: বক্সা ব্যাঘ্রপ্রকল্প, জলদাপাড়া অভয়ারণ্য, রাজাভাতখাওয়া (শকুন প্রজনন কেন্দ্র)।
● অন্যান্য: এখানে North-East Frontier Railway এর সদর দপ্তর অবস্থিত।