জলপাইগুড়ি জেলা - ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, নদ-নদী, কৃষি, দর্শনীয় স্থান |

 

জলপাইগুড়ি জেলা

জলপাইগুড়ি নামের উৎপত্তি সম্ভবত 'জলপাই' ফলের নাম থেকে হয়েছে। এখানে স্থানকে স্থানীয় ভাষায় 'গুড়ি' বলা হয়। ১৮৬৯ সালের ৮ই ডিসেম্বর জলপাইগুড়ি জেলার জন্ম হয়।


এক ঝলকে জলপাইগুড়ি

বর্ণনা

বছর / একক

বিবরণ

জেলার সদর শহর

জলপাইগুড়ি

মহকুমা

২০১৪ / সংখ্যা

থানা

,,

বসবাসযোগ্য গ্রাম

২০১১

৪০৪

মৌজা

২০০১

৪১৮

মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন

২০১৪

মিউনিসিপালিটি

,,

ব্লক

,,

পঞ্চায়েত সমিতি

,,

গ্রাম পঞ্চায়েত

,,

৮০

গ্রাম সংসদ

,,

১১৯৯

আয়তন

২০১১ / বর্গ কিমি

৩৩৮৬.১৮

জনসংখ্যা

২০১১ / সংখ্যা

২০৮১৫৯৬

জনসংখ্যার ঘনত্ব

২০১১ / প্রতি বর্গ কিমি

৪০১

পুরুষ জনসংখ্যা

২০১১ / শতাংশ

৫১.২০

মহিলা জনসংখ্যা

,,

৪৮.৮০

গ্রামীণ জনসংখ্যা

,,

৭২.৬২

শহুরে জনসংখ্যা

,,

২৯.০৮

বার্ষিক বৃষ্টিপাত

২০১৪ / মিমি

২৫৪৮.৮

সর্বোচ্চ উষ্ণতা

,,

৩৭.৯°

সর্বনিম্ন উষ্ণতা

,,

৭.৮°

মোট শ্রমিক

২০১১ / শতাংশ

৩৯.০৬

অ-শ্রমিক

,,

৬০.৯৪

শস্যক্ষেত্র

২০১৩-১৪ / '০০০ হেক্টর

৩৩৬.০২

চাষযোগ্য জমিতে জলসেচিত অঞ্চল %

,,

৪০.০৪

হাসপিটাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র

২০১৪ / সংখ্যা

১২০

প্রাথমিক বিদ্যালয়

২০১১

২০৩৫

জুনিয়র হাই

,,

১২২

হাইস্কুল

,,

৯৮

দ্বাদশ

,,

২৪০

সাক্ষরতা (পুরুষ)

২০১৩-১৪ / শতাংশ

৭৯.৯৫

সাক্ষরতা (মহিলা)

,,

৬৬.২০

সাক্ষরতা (মোট)

,,

৭০.২৫


ভৌগোলিক অবস্থান

উত্তর অক্ষাংশ

২৭°০০' ০০" উঃ

দক্ষিণ অক্ষাংশ

২৬°১৬' ০০" উঃ

পূর্ব দ্রাঘিমাংশ

৮৯°৫৩' ০০" পূঃ

পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ

৮৮°৩০' ০০" পূঃ

মোট আয়তন

৩৩৮৬.১৮ বর্গ কিমি


সীমানা

উত্তরে দার্জিলিং জেলা ও ভুটান, দক্ষিণে কোচবিহার জেলা ও বাংলাদেশ, পূর্বে অসম এবং পশ্চিমে দার্জিলিং জেলা অবস্থিত।


ভূ-প্রকৃতি

জলপাইগুড়ি জেলাটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হিমালয় পাদদেশীয় তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত। হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে নদীবাহিত নুড়ি, পলি, বালি সঞ্চিত হয়ে ঈষৎ তরঙ্গায়িত ভূমিরূপ সৃষ্টি করেছে। তিস্তার পশ্চিমে সামান্য উঁচু-নীচু। বক্সা অঞ্চলটি এখানকার একমাত্র পার্বত্য অঞ্চল। সিঙ্গুলা পর্বতশ্রেণি যার গড় উচ্চতা ৪,০০০-৬,০০০ ফুট, এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল রেনিগঞ্জো (৬,২২২ ফুট)। বক্সা ও ভুটান সীমান্তবর্তী অঞ্চল ছাড়া বাকি সব নদীবাহিত উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ।


জলবায়ু

এই জেলা উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত, যা প্রকৃতিগতভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বায়ু দ্বারা এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ গড় উষ্ণতা থাকে ৩৮°সে এবং সর্বনিম্ন ২৮°সে। শীতকালে সর্বোচ্চ উষ্ণতা ২০°সে এবং সর্বনিম্ন ৮°সে। এই অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩,০৪৮ মিলিমিটার।


নদ-নদী

জলপাইগুড়ি জেলার নদীসমূহ দুটি ভাগে বিভক্ত — (ক) ব্রহ্মপুত্র নদীগোষ্ঠী (খ) গঙ্গা নদীগোষ্ঠী। ব্রহ্মপুত্র নদীগোষ্ঠীর মধ্যে: তিস্তা, জলঢাকা, ঘাটিয়া, ঢ্যাগাথাং, লঙ্গাত/চামুটী, রেলী, ডিমডিমা, সুকৃতি, পাগলী, শুকানিতি, তিতি, তোর্সা, হাউর, কালজিনি, গদাধর, গাবুরজিতো, বক্সা, পানা, কালাভোড়া, গাপ্তিয়া, ডিনা, জরস্তী, তুড়তুড়ী — এগুলি উল্লেখযোগ্য।


কৃষি

ধান, গম, পাট, আলু, ডালশস্য, তৈলবীজ, তামাক, ফলমূল (আনারস, কমলালেবু), চা প্রভৃতি এই জেলার উল্লেখযোগ্য ফসল। জলপাইগুড়ি জেলার তিনটি প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ হল তিনটি 'T' — Tea, Timber এবং Tobacco / Tourism।


জনজাতি

অধূনালুপ্ত জনজাতি

ডোয়া, তথু, খোনিয়া, পানিকোচ, কিচক, জলদা প্রভৃতি

স্থানীয় জনজাতি (মঙ্গোলয়েড)

ভুটিয়া (শেরপা, ডুকনা, টোটো, কাগাতে, ইউলমো, তিব্বতি), মেচ (বোড়ো), রাভা, লেপচা, গারো, মগ, চাকমা, হাজং, লিম্বু প্রভৃতি

বহিরাগত জনজাতি (অস্ট্রিক/দ্রাবিড়)

ওরাঁও, মুণ্ডা, সাঁওতাল, লোধা, অসুর কোরা/কোড়া, মাহালি, শবর, হো, বীরহোড়, ভূমিজ, লোহার, নাগোশিয়া, মালপাহাড়িয়া প্রভৃতি


দর্শনীয় স্থান

১. গরুমারা — হাতি, লেপার্ড, হরিণ, বাইসন, গন্ডার২. চাপরামারি — বনজন্তু৩. জলেশ — শিবমন্দির৪. মূর্তি — বন-বাংলো৫. চালসা — চা বাগিচা৬. হলং — বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post