কালিম্পং জেলা
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে দার্জিলিং জেলা ভেঙে কালিম্পং জেলা গঠিত হয়েছে। তিস্তা এবং জলঢাকা নদীর মাঝখানে হিমালয়ের পাদদেশে কালিম্পং জেলা অবস্থিত। এখানে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল সমৃদ্ধ রয়েছে। এখানে ৮০% এর বেশি লোক জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল।
ইতিহাস: ১৮৬৪ সালে আংলো-ভুটান যুদ্ধের পরেই কালিম্পংয়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধ ছিল। ১৮৬৫ সালের ১১ নভেম্বর সিংচুলা চুক্তির পরেই কালিম্পং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছিল।
এক ঝলকে কালিম্পং জেলা
ভৌগোলিক অবস্থান
সীমানা
উত্তরে সিকিম, উত্তর পূর্বে আন্তর্জাতিক সীমানা ভুটান দক্ষিণে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলা।
ভূ-প্রকৃতি
এটি বন্ধুর পার্বত্যভূমি, খাড়া ঢাল, ও গভীর গিরিখাত দেখা যায়।
জলবায়ু
কালিম্পং-এ নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়। এখানকার গড় বৃষ্টিপাত ২২০ সেমি এবং গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ১৬-২৭°C এবং শীতকালে, ৫°-১৭° তাপমাত্রা থাকে। কালিম্পং বেড়াতে যাওয়ার ভালো সময় হেমন্ত ও বসন্ত কাল।
নদনদী
তিস্তা এবং জলঢাকা, রেলি (Relli) এখানকার প্রধান নদী। তিস্তা নদী সিকিমকে কালিম্পং-এর থেকে আলাদা করেছে।
কৃষি
কালিম্পং জেলায় প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিদ ও প্রাণী (Flora and Fauna) রয়েছে। এখানে ৮০% মানুষ গ্রামো-হর্টিকালচার এর উপর নির্ভরশীল। এখানের গুরুত্বপূর্ণ ফসল হল ধান, গম, মিলেট, তৈলবীজ, আলু। এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল হল আদা, হলুদ, কমলালেবু, পান-সুপারী।
চা
এখানে উচ্চমানের CTC চা পাওয়া যায়। এখানকার চা বাগানগুলি গরুবাথান ব্লকে রয়েছে। এখানকার ৬টি Tea estates হল সামাবেঙ্গা (Samabeong), আপার ফাগু (Upper Fagu), লোয়ার ফাগু (Lower Fagu), কুমাই (Kumai), অম্বিকক ও মিশন হিলস (Ambiok and mission hill)।
দর্শনীয় স্থান
তিস্তা বীজ, কালিম্পং আর্টস ও ক্রাফটস সেন্টার, ডঃ গ্রাহামের বাড়ি, গৌরীপুর হাউস, দূরবীন দারা পাহাড়, গল্ফ কোর্স, সুইস ওয়েলফেয়ার ডেয়ারি, সেন্ট্রাল সেরিকালচার স্টেশন, ধর্মদয়া বিহার, লাভা, গীতডাবলিং বুদ্ধবিহার, মোনাস্ট্রি, পেডং মোনাস্ট্রি, কালীবাড়ি, থোংসা গুম্বা মোনাস্ট্রি, থারপা চোলিং মোনাস্ট্রি, জং ডগ পালরি, ফ্লোরাং মোনাস্ট্রি, ফুলের নার্সারি ও অন্যান্য অনেক নার্সারি আছে।