পশ্চিম বর্ধমান
২০১৭ সালের ৭ই এপ্রিল বর্ধমান জেলাকে ভেঙে নবতম জেলা পশ্চিম বর্ধমান হয়েছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের ২৩তম জেলা। এর সদর দপ্তর আসানসোল।
আসানসোলে প্রায় ২৫০০ বছর আগে জৈন ধর্মীয় আন্দোলনের একটি শক্তিশালী ইতিহাস রয়েছে এবং বিশ্বাস করা হয় ভগবান মহাবীর এখানেই ছিলেন। আসানসোল বিষ্ণুপুর কিংডোমের অধীনে ছিল বলে মনে করা হয়। এই রাজ্যটি ব্রিটিশ শাসনের আগে পর্যন্ত প্রায় ১০০০ বছর পর্যন্ত মল্ল রাজবংশের দ্বারা পরিচালিত ছিল।
● নামকরণ: আসানসোল নামটি দুটি নাম থেকে এসেছে। আসন গাছ এবং সোল যার অর্থ খনিজ বর্ধিত জমি (mineral enhanced land)। দামোদর নদীর তীরে প্রচুর পরিমাণে আসান গাছ পাওয়া যায়। এখানে প্রচুর খনিজ ভাণ্ডার রয়েছে।
এক ঝলকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা
ভৌগোলিক অবস্থান
সীমানা
উত্তরে দুমকা ও বীরভূম জেলা, দক্ষিণে দামোদর নদী ও পূর্ণিয়া, বীকুড়া জেলা পশ্চিমে ঝাড়খণ্ড সীমানা, পূর্বে পূর্ব বর্ধমান জেলা অবস্থিত।
ভূ-প্রকৃতি
পশ্চিম বর্ধমান জেলা ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ। এখানে পাথুরে অসমতল ভূমিরূপ দেখা যায়। জেলার পূর্বদংশ ধীরে ধীরে সমতল হয়েছে।
জলবায়ু
পশ্চিম বর্ধমান জেলাটি ছোটনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত তাই মধ্য ভারতে মতো আবহাওয়া থাকে। এই জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৩০০ মিমি।
মৃত্তিকা
এই জেলার পশ্চিমাংশে ল্যাটারাইট মৃত্তিকা এবং পূর্বাংশে পলি মৃত্তিকা পাওয়া যায়।
স্বাভাবিক উদ্ভিদ
ক্রান্তীয় শুষ্ক পর্ণমোচি শাল, সেগুন, পলাশ, অর্জুন, বৃক্ষ পাওয়া যায়।
নদনদী
এই জেলার প্রধান নদী দামোদর। এই নদীর উপর DVC (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) অবস্থিত। এছাড়া নুনিয়া (সীতারামপুর ও আসানসোলের কাছে), সিঞ্জাবান ইত্যাদি।
কৃষি
এই জেলার প্রধান ফসল হল ধান, গম, ভুট্টা, তৈলবীজ ইত্যাদি।
শিল্প
এই জেলায় প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা। ভারতের বৃহত্তম রেলইঞ্জিন কারখানা চিত্তরঞ্জন, রানিগঞ্জের কয়লাখনি (বিটুমিনাস জাতীয়)। ১৭৭৪ সালে ভারতের প্রথম কয়লাখনি এই রানিগঞ্জেই অবস্থিত।
যোগাযোগ
দুর্গাপুর-আসানসোলের মধ্যে NH-19 সড়ক পথ রয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম এয়ারপোর্ট অঞ্চলে অবস্থিত।
বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (ষোড়শ শতাব্দীর বাঙালি কবি), বৃন্দাবন দাস ঠাকুর, কাশীরাম দাস, অক্ষয়কুমার দত্ত, রাসবিহারী বসু, কালিদাস রায়, কাজী নজরুল ইসলাম, সুবোধ চৌধুরী প্রমুখ।