কোচবিহার জেলা - ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, নদ-নদী, কৃষি, শিল্প, লোকসংস্কৃতি, দর্শনীয় স্থান |

 

কোচবিহার জেলা

ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে জলপাইগুড়ি বিভাগের অন্তর্গত কোচবিহার জেলা। কোচবিহার জেলা প্রায় ত্রিভুজাকৃতি একটি ভূখণ্ড।

● নামকরণ: 'কোচ' ও 'বিহার' দুটি শব্দের সমন্বয় হল কোচবিহার, যার সাধারণ অর্থ হল 'কোচজাতির বাসভূমি'। আকবরি ও বাহারিস্তান-ই-ঘাইবিতে কোচ রাজ্যের উল্লেখ রয়েছে। ভারতের স্বাধীনতার প্রাকালে এটি ছিল একটি 'কোচ রাজ্য'। তবে বর্তমানে কোচবিহার জেলার জন্ম ১৯৫০ সালে (১৯০৫, ২৯। (ক) ধারা অনুসারে ভারতভুক্তির পর)।


এক ঝলকে কোচবিহার জেলা

বর্ণনা

বছর / একক

বিবরণ

জেলার সদর শহর

কোচবিহার

মহকুমা

২০০৯ / সংখ্যা

থানা

,,

১৬

বসবাসযোগ্য গ্রাম

২০০১

১১৩৮

মৌজা

,,

১২০২

মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন

২০০৯

মিউনিসিপালিটি

,,

ব্লক

,,

১২

পঞ্চায়েত সমিতি

,,

১২

গ্রাম পঞ্চায়েত

,,

১২৮

গ্রাম সংসদ

,,

১৯১৪

আয়তন

২০০১ / বর্গ কিমি

৩০৮৭.০০

জনসংখ্যা

২০১১ / সংখ্যা

২৮১৯০৮৬

জনসংখ্যার ঘনত্ব

২০১১ / প্রতি বর্গ কিমি

৮৩২

পুরুষ জনসংখ্যা %

২০১১

৫১.০১

মহিলা জনসংখ্যা %

,,

৪৮.৬৯

গ্রামীণ জনসংখ্যা %

২০০১

৯০.৯০

শহুরে জনসংখ্যা %

,,

৯.১০

বার্ষিক বৃষ্টিপাত

২০০৯ / মিমি

২৫০৯

সর্বোচ্চ উষ্ণতা °C

,,

৩৯

সর্বনিম্ন উষ্ণতা °C

,,

শস্যক্ষেত্র

২০০৬-০৯ / '০০০ হেক্টর

২৪৮.২৯

চাষযোগ্য জমিতে জলসেচিত অঞ্চল %

,,

৪০.০২

হাসপিটাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র

২০০৯ / সংখ্যা

৬৩

প্রাথমিক বিদ্যালয়

২০০৬-০৯

১৮০৩

মাধ্যমিক বিদ্যালয়

,,

৫২

উচ্চ বিদ্যালয়

,,

১২৮

উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

,,

১০০

সাধারণ কলেজ

,,

১১

বিশ্ববিদ্যালয়

,,

সাক্ষরতা (পুরুষ)

২০১১ / শতাংশ

৮০.৯১

সাক্ষরতা (মহিলা)

,,

৬৮.৪৯

সাক্ষরতা (মোট)

,,

৭৪.৯৮


ভৌগোলিক অবস্থান

উত্তর অক্ষাংশ

২৬°৩২'২০" উঃ

দক্ষিণ অক্ষাংশ

২৫°৫৯'২০" উঃ

পূর্ব দ্রাঘিমাংশ

৮৯°৫৪'৩৫" পূঃ

পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ

৮৮°৪৯'৪০" পূঃ

সদর শহর — কোচবিহার অক্ষাংশ

২৬°১৯' ৮৬" উঃ

সদর শহর দ্রাঘিমাংশ

৮৯°২৩'৫০" পূঃ

মোট আয়তন

৩,০৮৭ বর্গ কিমি


সীমানা

এই জেলার উত্তরে জলপাইগুড়ি জেলা, দক্ষিণ পশ্চিমে বাংলাদেশ, পূর্বে অসম রাজ্য অবস্থিত। এছাড়া এই জেলার সীমানার মধ্যে রয়েছে ১১০টি ছিটমহল (enclaves/chitts) যেগুলি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডরূপে বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত।

কোচবিহার এবং বাংলাদেশের ৫৪৯.৪৫ কি.মি. দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। এই জেলাকে ঘিরে রয়েছে পশ্চিম, দক্ষিণ এবং পশ্চিম-পূর্বে বাংলাদেশের নীলকামারি, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলা।


ভূ-প্রকৃতি

জেলাটি সম্পূর্ণরূপে সমভূমির অন্তর্গত। হিমালয় থেকে নেমে আসা নদ-নদীবাহিত পলি বালি সঞ্চয়ে গঠিত এই জেলার মাটি। এই জেলার বেশির ভাগ উচ্চভূমি শীতলকুচি (দক্ষিণ পশ্চিম দিকে) এলাকা সংলগ্ন। এবং বেশিরভাগ নিচু জমি দিনহাটা (পূর্বদিকে) এলাকা সংলগ্ন।


জলবায়ু

এই জেলার জলবায়ু সাধারণত অত্যাধিক আর্দ্র। এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় ও সেইসঙ্গে তাপমাত্রা প্রায়ই বেশি থাকে। শীতকালে সর্বোচ্চ উষ্ণতা ২৮°সে ও সর্বনিম্ন ৪°সে মধ্যে থাকে। গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ উষ্ণতা ৩৯°সে ও সর্বনিম্ন ২৮°সে। এই জেলার গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,২০১.৩ মিমি।


নদ-নদী

কোচবিহার জেলাটি নদী মাতৃক। পশ্চিমবঙ্গের আর কোনো জেলায় এত অধিক সংখ্যক নদ-নদী নেই। নদীগুলি বয়সে নবীন। প্রতিনিয়ত এদের গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। নদী-গুলিঃ তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা, কালজানি, রায়ঢাক, গদাধর, শানিয়াজান, খুটামারা, মাতজান, কুমনাই, দিকে প্রবাহিত হয়েছে।


কৃষি

কোচবিহার জেলায় ধান, গম, তৈলবীজ, পাট, আলু, ডালশস্য, শুকনো লক্ষা, তামাক, তৈলবীজ, চা, আদা (কাঁচা), হলুদ (শুকনো) প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে।


শিল্প

কোচবিহার আমাদের রাজ্যের শিল্পে অনগ্রসর জেলাগুলির মধ্যে একটি। এই জেলার একটি শিল্পাঞ্চল হল IIDC উন্নয়ন কেন্দ্র। এখানে দুগ্ধ শিল্প, আলুর হিমঘর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, ময়দা, কটন জিন, পিভিসি পাইপ, বোতলবন্দি বিশুদ্ধ পানীয় জল, নাইলনের কাপড়, রেডিমেড পোশাক, চালকল প্রভৃতি শিল্প গড়ে উঠেছে।


উপজাতি

থেব, রাগা, রাজবংশী, কোচ।


লোকসংস্কৃতি

(i) মদনকাম বা বাঁশ পুজো, (ii) যাত্রাপুজো, (iii) ভাগী দেওয়া, (iv) গাংবেড়া, (v) বেষমা পার্বণ বা বাই দেওয়া, (vi) হুদুম দ্যাওপুজো, (vii) জখা ও জখী, (viii) অষ্টনাগের মেলা, (ix) দোল সোয়ারীর মেলা, (x) ভাওয়াইয়া, (xi) বাইটাল (ষষ্ঠী) পুজো, (xii) দেঁগরা পালা।


দর্শনীয় স্থান

মদনমোহন মন্দির, অনাথনাথ শিব মন্দির, বড়দেবী মন্দির বা দেবীবাড়ি, শাহপীরের দরগা (ধলুয়াবাড়ি), মধুপুর ধাম, কোচবিহার রাজপ্রাসাদ, বৈকুণ্ঠপুরের বৈকুণ্ঠনাথ মন্দির, ঘুণেশ্বরী মন্দির (চামটা), কামতাপুর দুর্গ, গৌসানীমন্দির, পির একরাসুলের দরগা (মেখলিগঞ্জ), রসিক বিল, রসমতী বিল।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post