ঝাড়গ্রাম জেলা
২০১৭ সালের ৪ঠা এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বানার্জী ঝাড়গ্রামকে পশ্চিমবঙ্গের ২২তম জেলা হিসাবে ঘোষণা করেন। এই জেলাটি পশ্চিম মেদিনীপুরকে ভেঙে গঠন করা হয়েছে। এর সদর দপ্তর ঝাড়গ্রাম।
এক ঝলকে ঝাড়গ্রাম জেলা
ভৌগোলিক অবস্থান
সীমানা
উত্তরে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া দক্ষিণে ওড়িশা সীমানা, পূর্বে পশ্চিম মেদিনীপুর পশ্চিমে ঝাড়খণ্ড সীমানা।
ভূ-প্রকৃতি
ঝাড়গ্রাম জেলাটি ছোটনাগপুর মালভূমির একটি অংশ। ছোটনাগপুর মালভূমির বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে সমভূমির সঙ্গে মিলিত হওয়া। ঝাড়গ্রাম জেলাটি খরাপ্রবণ জেলা। এই জেলার উত্তর-পশ্চিম অংশে পাহাড়ী ভূ-খন্ড দেখা যায় ভূমির সঙ্গে মিলিত হওয়া।
জলবায়ু
ঝাড়গ্রামের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৪০০ মি.মি.। বর্ষাকালে জুন থেকে সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষণ হয় এবং অক্টোবর মাস থেকে বৃষ্টিপাত হ্রাস হতে থাকে। গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮° সে এবং শীতকালে সর্বনিম্ন ৫° পর্যন্ত হয়।
নদনদী
এই জেলার প্রধান নদী সুবর্ণরেখা, কংসাবতী ও দুলুং নদী। অধিকাংশ নদী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
স্বাভাবিক উদ্ভিদ
এখানে প্রধানত শাল, পলাশ, মহুয়া ইত্যাদি উদ্ভিদ পাওয়া যায়।
কৃষি ও শিল্প
ধান, গম, ভুট্টা এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। সুপার স্পেশ্যালিস্ট হাসপাতাল — ৩, গ্রামীণ হাসপাতাল-৮ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র-২৫, উপস্বাস্থ্য-২১৯ রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
এখানে সড়ক ও ট্রেন যোগাযোগ উন্নত। এই জেলা দিয়ে রাজ্যসড়ক NH-9, NH-18 গিয়েছে।
পর্যটন
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, ডিয়ার পার্ক, চিলাকগড় রাজপ্রাসাদ, গোপীবল্লভপুর ইকো পার্ক, ঝিলি পাখিরালয় ইত্যাদি রয়েছে।
বিশেষ দর্শনীয়
বিঝিলি পাখিরালয়: গোপীবল্লভপুর থেকে ২২ কিমি দূরে ওড়িশা সীমান্তে এই বিঝিলি পাখিরালয় অবস্থিত। এখানে পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে।
ঢাঁকুকুসুম: এটি বেলপাহাড়ি ঢাঁকুকুসুম গ্রামের ডুংরির ফলস এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা যায়। এটি একেবারে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া।
নয়াগ্রামের তেপাবন: ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের জঙ্গলের মাঝে রয়েছে তেপাবন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এখানেই নাকি বাল্মীকির আশ্রম ছিল।
লালজল গুহা: ঝাড়গ্রাম থেকে ৬০ কিমি দূরে বেলপাহাড়ি লালজলের গুহাতে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য রয়েছে।