মালদা জেলা - ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, কৃষি, দর্শনীয় স্থান

 

মালদা

'মলদ' নামে এক কৌমগোষ্ঠী অনেকদিন আগে এই অঞ্চলে বাস করত। মনে করা হয় এই 'মলদ' শব্দ থেকেই মালদা, মালদহ ইত্যাদি নামগুলির সৃষ্টি। অন্য মতে ফারসি 'মাল' এবং বাংলা 'দহ' এই দুই শব্দের মিলেনেই মালদহ নামের জন্ম। 'মাল' শব্দের অর্থ সম্পদ আর 'দহ' শব্দের অর্থ সাগর। অর্থাৎ এক সমৃদ্ধ জনপদ বোঝাতেই এই নাম ব্যবহার করা হয়।

ইংরেজ শাসনের শুরুতে মালদা আলাদা জেলা ছিল না। জেলার কিছু অংশ ছিল পূর্ণিয়া জেলায়, বাকি অংশ ছিল দিনাজপুর জেলায়। ১৮৫৯ সাল থেকে ১৮৭৬ সাল পর্যন্ত এই জেলা রাজশাহি বিভাগের অংশ ছিল। ১৮৭৬ সালের পর ভাগলপুর বিভাগের অংশ হয় মালদা। ১৯০০ সালে আবার রাজশাহি বিভাগে ফিরে আসে। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হলে ব্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী ১৭ আগস্ট মালদা ভারতের অংশ হলেও শিবগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাচোল ও গোমস্তাপুর থানা পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) অংশ হয়। বর্তমানে মালদা জেলা মালদা বিভাগের অন্তর্গত চারটি জেলার অন্যতম।


এক ঝলকে মালদা জেলা

বর্ণনা

বছর / একক

বিবরণ

জেলার সদর শহর

ইংলিশ বাজার

মহকুমা

২০১৪ / সংখ্যা

থানা

,,

১১

বসবাসযোগ্য গ্রাম

২০১১

১৬১০

মৌজা

২০০১

১৯৯৮

মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন

২০১৪

মিউনিসিপালিটি

,,

১৫

ব্লক

,,

১৫

পঞ্চায়েত সমিতি

,,

১৪৮

গ্রাম পঞ্চায়েত

,,

২২৬৮

গ্রাম সংসদ

,,

আয়তন

২০১১ / বর্গ কিমি

৩৭৩৩.০০

জনসংখ্যা

২০১১ / সংখ্যা

৩৯৮৮৮৪৫

জনসংখ্যার ঘনত্ব

,,  / প্রতি বর্গ কিমি

১০৬৯

পুরুষ জনসংখ্যা %

২০১১

৫১.৪০

মহিলা জনসংখ্যা %

,,

৪৮.৫৭

গ্রামীণ জনসংখ্যা %

,,

৮৬.৪২

শহুরে জনসংখ্যা %

,,

১৩.৫৮

বার্ষিক বৃষ্টিপাত

২০১৪ / মিমি

১২৯২

সর্বোচ্চ উষ্ণতা °C

,,

৪২

সর্বনিম্ন উষ্ণতা °C

,,

শস্যক্ষেত্র

২০১৩-১৪ / '০০০ হেক্টর

২৩২.১৬

চাষযোগ্য জমিতে জলসেচিত অঞ্চল %

,,

৫৫.০৪

হাসপিটাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র

২০১৪ / সংখ্যা

৯১

সাক্ষরতা (পুরুষ)

২০১১ / শতাংশ

৬৬.২৪

সাক্ষরতা (মহিলা)

,,

৫৬.৯৬

সাক্ষরতা (মোট)

,,

৬১.৭০


ভৌগোলিক অবস্থান

উত্তর অক্ষাংশ

২৫°৩২' ০৮" উঃ

দক্ষিণ অক্ষাংশ

২৪°৪০' ২০" উঃ

পূর্ব দ্রাঘিমাংশ

৮৮°২৮' ১০" পূঃ

পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ

৮৭°৪৪' ১০" পূঃ

সদর শহর — ইংলিশ বাজার অক্ষাংশ

২৫°০০' ১৪" উঃ

সদর শহর দ্রাঘিমাংশ

৮৮°১১' ২০" পূঃ

মোট আয়তন

৩,৯৩৩ বর্গ কিমি


সীমানা

উত্তরে বিহার রাজ্য, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা, দক্ষিণে মুর্শিদাবাদ জেলা ও বাংলাদেশ, পশ্চিমে ঝাড়খণ্ড ও বিহার রাজ্য, পূর্বে বাংলাদেশ অবস্থিত।


ভূ-প্রকৃতি

উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত মহানন্দা নদী মালদা জেলাকে দ্বিধাবিভক্ত করেছে: বারিন্দ ও তাল। মহানন্দা নদীর পূর্বদিকে বারিন্দ অঞ্চল মূলত গাজোল, হাবিবপুর ও বামনগোলা নিয়ে গঠিত। প্রাচীন পলিমাটি সমৃদ্ধ এখানকার অপেক্ষাকৃত উচ্চভূমি লাল রঙের মৃত্তিকায়ুক্ত।


কৃষি

কৃষিকাজ মালদা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। মালদা জেলায় ধান (আউস, আমন ও বোরো), গম, আলু, আখ, পাট, তৈলবীজ, শাকসবজি, ভুট্টা প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে। আম এই জেলার প্রধান ফল। মূলত ফজলি, লাংড়া, গোপালভোগ, অতিন প্রজাতির আম ফলে। ফজলি আমের উৎপাদন সর্বাধিক। এছাড়া লিচু, পেয়ারা, কলা, আনারস চাষ হয়। রেশম চাষ খুব ভালো হয়।


দর্শনীয় স্থান

মালদা জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হল গৌড়শহর ও পাণ্ডুয়া।● গৌড় শহর: সুলতান নসরত শাহের নির্মিত বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারি, সাইফুদ্দিন ফিরোজশাহ নির্মিত ৮৪ ফুট উঁচু ফিরোজ মিনার এবং চিকন মসজিদ, তাঁতিপাড়া মসজিদ, অন্যতম।● পাণ্ডুয়া: এই শহর সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল। এখানে আদিনা মসজিদ একলাখি, বড়ো দরগা, ছোট দরগা, গুচ্ছবাহী মসজিদ, জাম-ই মসজিদ এবং এখানকার ডিয়ারপার্ক অন্যতম।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post